সরোবর, একটি তারামানুষ... অন্তত

খারদাল – রান্নায় সরিষা

ইউরোপ অ্যামেরিকাতে সুপারমার্কেটে সরষের তেলের গায়ে লেখা থাকে “For external Use Only”. এ ব্যাপারটা অনেককে চিন্তায় ফেলে দেয়। তাহলে কী সরষের তেলে ক্ষতিকর কিছু আছে?
এ ঘোষণাটা মূলত ১৯৭০ সালে করা কিছু গবেষণার ওপর ভিত্তি করে করা যেখানে ল্যাবে ইঁদুরের ওপরে পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছিল সরষের তেলে থাকা এরুসিক এসিড হৃদপিন্ডের জন্য ক্ষতিকর।
এ গবেষণার পেছনে সয়াবিন এবং পাম তেলকে বিশ্বময় ছড়িয়ে দেওয়ার কোনো পুঁজিবাদী চক্রান্ত ছিল কিনা সে প্রশ্ন আমরা তুলছি না।
আমরা ভাবছি সয়াবিন তেল আসার আগে এ দেশের মানুষ তো সরষের তেলের রান্নাই খেত – তখনকার মানুষের হৃদরোগের হার ছিল কম আর এখন সেই তথাকথিত ‘ক্ষতিকর’ তেল খাওয়া ছাড়াই কেন মানুষের হৃদরোগের হার এত বাড়তি?
হার্ভাড স্কুল অফ পাবলিক হেলথ এর পুষ্টিবিভাগের চেয়ারম্যান ওয়াল্টার উইলেট জানাচ্ছেন, “আসলে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর আছে কিনা আমরা জানি না। সম্ভাব্য ক্ষতির গবেষণাগুলো না-মানুষদের ওপরে করা।”
এবং কিছু কিছু গবেষণায় আমরা পুরো উল্টো তথ্যও পাচ্ছি। ২০০৪ সালে অ্যামেরিকান জার্নাল অফ ক্লিনিকাল নিউট্রিশনের এক গবেষণায় দেখা গেছে সরষের তেল যারা খান তাদের হৃদরোগের ঝুঁকি কম।
আর যদি ফুড প্রসেসিং এর পরিমাণের কথা চিন্তা করি তবে দেশে যত ভোজ্যতেল আছে তার মধ্যে সরষের তেলের প্রসেসিং তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে কম।
তাই, শুধু ভর্তা বা মুড়ি মাখাতে নয়, প্রতিদিনের রান্নাতে সরষের তেল ব্যবহার করতে পারেন। নিশ্চিন্তে।

তথ্যসূত্রঃ https://www.nytimes.com/2011/11/02/dining/american-chefs-discover-mustard-oil.html

Share this post



Leave a Reply

Your email address will not be published.