শক্তি ও প্রশান্তিতে এক বাটি তালবিনা

বাচ্চাদের ব্রেকফাস্টে আমরা অনেক মা-বাবারা নামিদামি ব্রান্ডেড সিরিয়ল দিয়ে থাকি। সিরিয়ল বা শস্যদানা। দিনের যেকোন এক বা দু বেলার খাবার হিসেবে নিঃসন্দেহে একটা গুড চয়েস। ব্যাস্ততায় হোক কিংবা একটু আরামের জন্যই কিংবা বাচ্চারা খেতে পছন্দ করে বলে হোক দিন দিন এ ধরনের রেডিফুডের দিকে আমরা ভালো রকম ঝুঁকছি।

রেডিফুড অবশ্যই স্বস্তিদায়ক। কিন্তু স্বাস্থ্যকর কি না এটা ভেবেছেন কখনো?

ব্রেকফাস্ট সিরিয়ল নিয়ে আপনি যদি একটু গুগল করেন তাহলে দেখতে পাবেন বাইরের দেশগুলোর ব্রেকফাস্টের এই অতি জনপ্রিয় খাবারটি বাচ্চাদের মুখরোচক করতে কতকিছু করতে হয়েছে নিরীহ শস্যদানাগুলোকে। একটার পর একটা প্রসেসিং এর ধাপ পার হয়ে টেস্টবাডের পছন্দসই বিভিন্ন এডিটিভ যোগ করা হয়, প্রিজারভেটিভ দেয়া হয়, বেশ পরিমাণে চিনি মেশানো হয়, এরপর আবার এরা নিজেদের টেক্সচারেও থাকে না। বাচ্চারা পছন্দ করবে এরকম বিভিন্ন রকমের শেইপ এবং রং দেয়া হয়। ফাইনালি এটা কিন্তু আর স্বাস্থ্যকর শস্যদানা থাকে না। হয়ে যায় সুপার প্রসেসড, গ্লুটেন ফ্রী, আঁশবিহীন, চিনিযুক্ত এক আনহেলদি খাবার!

অথচ শস্যদানায় থাকা কার্বোহাইড্রেট- শরীরে শক্তি দেয়, প্রোটিন -মাসল তৈরির কাজ করে, আঁশ- হজমে সাহায্য করে পরিপাকতন্ত্রের যত্ন নেয়, বিভিন্ন খনিজ ও ভিটামিন -রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এসবই বাড়ন্ত বাচ্চাদের জন্য অতিব জরুরি খাদ্যউপাদান। যা প্রসেসিংএর ধাপ পেরোনোর পর বেশিরভাগই নষ্ট হয়ে যায়।

তালবিনা। এতে আছে যব, ছোলা, চালের মত গুরুত্বপূর্ণ শস্যদানাগুলোর পারফেক্ট মিশ্রণ। কোন রকম প্রসেসিং এ যাওয়া হয় না , মেশানো হয় না ক্ষতিকর চিনি বা রং, দেয়া হয় না কোন প্রিজারভেটিভ । শস্যদানার প্রতিটি খাদ্য উপাদান অটুট থাকে।

করোনাকালীন এই সময়ে পরিবারের যে কেউ একজন অসুস্থ থাকলে বাকিদের অস্থিরতার শেষ থাকেনা। বাচ্চাদের খাবার নিয়েও দুশ্চিন্তায় পড়তে হয়। ঘরে একটি তালবিনা থাকলে স্বস্তি আসে মায়েরও। অসুস্থ মানুষটিকেও শক্তি ও প্রশান্তি এনে দেয় এক বাটি তালবিনা।

গরম দুধে মধু বা খেজুর দিয়ে সাথে কয়েক চামচ তালবিনা ছেড়ে দিন। সন্তানের দিনের শুরু হোক স্বাস্থ্যকর তালবিনা দিয়ে।

X