সরোবর এর সামাজিক দায়বদ্ধতা

পূর্ব দিগন্তে লাল আভা শোভা পাচ্ছে। সময় হয়েছে বেরুবার। সাথে বানভাসি মানুষদের জন্য খাবারের সামগ্রী।

সেই ভোরে বের হয়ে আবার যোহরের আগে বাসায় ফিরে আসা। একটু জিরিয়ে নিয়ে খেয়েদেয়ে পরের দিন স্পটের জন্য প্যাকেট প্রস্তুত করা। এভাবেই রুটিনমাফিক চলেছে গত ক’দিন।

বন্যার হিসেব নিকেষ এবছর কিছুটা অন্যরকম। এবার পানির স্থায়িত্ব ছিলো একটু বেশি। কোন কোন এলাকায় ৫ ফুট পর্যন্ত পানি উঠেছে। পানি বেড়ে যাওয়া ও কমার হিসেব নিকেশে অনেকের বাড়ির জায়গাটুকুই ভেঙ্গে গেছে। ফলে কোনোরকমে ঠাঁই হয়েছে রাস্তার পাশে।

কোনো কোনো ‘চর’ বিলীন হয়েছে পানির নিচে। কোনদিন এখানে প্রাণের অস্তিত্ব ছিল তা ঠাওর করাই কঠিন হয়ে! লোকেরা যে ফসলের উপর নির্ভর করে সংসারটা টেনে যেতো তার আবাদ সম্ভব হয়নি এবারে।
সরোবর তার সামাজিক দায়বদ্ধতার (CSR) অংশ হিসেবে আপনাদের সাথে নিয়ে ৩০০০ এর অধিক পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী দিয়েছে। যার মধ্যে ছিলো চাল, তেল, আটা আবার কোথাও চালের সাথে ডাল, লবণ।
বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, কুড়িগ্রাম ও তিস্তার তীরবর্তী বেশ কিছু অঞ্চলে গিয়েছিলাম আমরা আমাদের প্যাকেজগুলো নিয়ে। সাক্ষী হয়েছি নিত্য চেনা জগতের বাইরের অন্য এক জগতের।

চারদিকে মানুষের আহাজারি, অশ্রু আর টিকে থাকার এক অদ্ভুত আকুতি। খাদ্যসামগ্রীগুলো হাতে পেয়েই যখন অনেকে আনন্দাশ্রু বিসর্জন করে বারবার দুয়া করে যাচ্ছিলেন আমাদের জন্য- থমকে গিয়ে বারবার আমরা ভাবছিলাম আল্লাহ সুবহানাহুতায়ালা কি অসীম নিয়ামত দিয়ে আমাদের ঘিরে রেখেছেন।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের বলেছেন – উপরের দিকে না তাকিয়ে আমাদের চাইতে নিচের স্তরের লোকেদের দিকে তাকাতে, না হলে আমরা কখনওই আমাদের অসীম নিয়ামতের শোকর আদায় করতে পারব না।

তাই এই ব্যস্ত জীবনটা ছেড়ে মাঝে মাঝে একটু নিজ বৃত্তের বাইরে গিয়ে যদি আমরা পৃথিবীটা কে না দেখতে চেষ্টা করি, সত্যিই কখনও বুঝতে পারব না আমার, আমাদের পৃথিবীটা কত সহজ, কত সুন্দর, কত নিয়ামতে পরিপূর্ণ!

একজন চাচার ছবি – তার খুশিটা আপনাদের দেখানোর জন্য। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা এই প্রজেক্টে যারা টাকা দিয়েছেন, যারা খাবার কিনেছেন, যারা বিতরণ করেছেন – সবার পরিশ্রমটা কবুল করে নিন।

X