‘Learning – How to learn’

সন্ধ্যা ৭.১৫! সাহিল ম্যাথ করতে বসেছে। ভালোয় ভালোয় সলভ করে যাচ্ছিলো। একটা পর্যায়ে এসে আর মাথা কাজ করছে না। জটিল একটা সমস্যায় আটকে গেছে, ম্যাথের সমাধান মাথায় আসি আসি করেও আসছে না। এর মধ্যেই পাশে রাখা মোবাইলটা হাতে তুলে নিল।ভাবলো, ফেসবুকটা একটু চেক করে দেখি। মেসেজের ঘরটায় ৫ টা নোটিফিকেশন এসে বসে আছে।

বন্ধু-পরিচিতজনরা নক দিয়েছিলো। উত্তর দিয়ে এবার স্ক্রোলিং করা শুরু করলো। একটা পোস্ট দেখা শেষ তো আরেকটা, আবার কেনাকাটার কিছু পেইজ চোখের সামনে আসাতে ভাবলো একটু ঢুঁ মেরে আসি – এভাবে কেটে গেলো একটা ঘন্টা!হঠাৎ বোধোদয় হলো সাহিলের! এতোক্ষণ সে কী করছিলো? নিজের উপর প্রচন্ড পরিমাণ রাগ হতে লাগলো। হতাশায় মনটাই খারাপ হয়ে গেলো।

আপনি কিছু শিখতে চান, বুঝতে চান কিন্তু সেটা যদি সঠিক পদ্ধতিতে না করেন তাহলে দেখা যাবেআপনার সময়টার সঠিক ব্যবহারই হবে না। হ্যাঁ, আপনি ফেসবুকে থাকতে পারেন, গুগল সার্চিং তো করতেই হয় কিন্তু কোন সময় কোনটা করবেন সেটা বোঝাটা জরুরী। কোনো কিছু শেখার জন্য দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। একটি হচ্ছে মনোযোগ দেয়া আর আরেকটি মনোযোগ না দেয়া।ভাবছেন, এটা আবার কিভাবে সম্ভব!হ্যাঁ, সম্ভব। কারণ এটা যদি সঠিকভাবে করা না যায় তাহলে উপরের ঘটনার মতো আপনার গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলো হারাবেন ফেসবুক ক্রলিং বা ইউটিউবে।

আপনি যে বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করতে চান, সেটা কতক্ষণ মনোযোগ দিয়ে শিখবেন সেটার একটা সময় নির্ধারণ করুন। ধরুন, এ সময়টা হবে ২৫ মিনিট। অর্থাৎ এই সময়টায় আপনি সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে কাজটি করবেন। তারপর ৫ থেকে ১০ মিনিটের একটা ব্রেক নিয়ে নিবেন। এ সময়টায় আপনি হাঁটাহাঁটি করতে পারেন অথবা, এক কাপ জিনোলিভ হাতে নিয়ে উদাস ভঙ্গিতে বারান্দার ফাঁক গলে ভ্যানে সবজি বিক্রেতার হাঁকডাক শুনবেন।

আবার, চাইলে চোখ বন্ধ করে শুয়েও থাকতে পারেন। অর্থাৎ, যা ইচ্ছা করে তাই করবেন কিন্তু মনোযোগ বা ফোকাস দিয়ে না, কারণ এটা ব্রেক টাইম। যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ আপনার মনোযোগ দিয়ে কোনো কিছু শেখাকে পোক্ত করতে।এই পদ্ধতিকে বলে ডিফিউসড লার্নিং। ডিফিউসড লার্নিং মানে মন দেওয়া এবং মন না দেওয়ার মিশেল।

ডিফিউসড লার্নিং এর খুব সহজ একটা টুল হচ্ছে ‘পমোডোরো টেকনিক’।আপনি কোনো বিষয়ে শেখা বা দক্ষতা অর্জনের জন্য একটা সময় নির্ধারণ করবেন যা হতে পারে ২৫, ৩০ বা ৪৫ মিনিট, এর পর ৫/১০/১৫ মিনিটের একটা বিরতি। তারপর আবার শুরু করবেন। দেখবেন আগের চেয়ে মনোযোগ অনেক বেড়ে গেছে। একটা বিষয়কে ভালোভাবে বুঝতেও কম সময় লাগছে। আর মাথা ভালো কাজ করছে।

আমরা সরোবর থেকে একটা ওয়ার্কশপের আয়োজন করেছি ‘Learning – How to learn’ শিরোনামে। এখানে উপরের একটা টেকনিকের মতো আরো কিছু বিষয় শেখানো হবে। যাতে আপনি আপনার জীবনে যে পরিস্থিতিতেই থাকুন না কেনো, যাই শিখতে চান আপনার সামর্থ্য ও যোগ্যতা অনুযায়ী, সেটা শিখতে পারবেন – কারণ আপনি জানবেন কীভাবে কোনো কিছু শিখতে হয়।

রেজিস্ট্রেশন লিংক কমেন্ট সেকশনে দেয়া আছে।
ওয়ার্কশপের ফি – ৮০০ টাকাওয়ার্কশপটি তিনটি সেশন এ হবে।

প্রথম সেশন –২৭ আগস্ট (শুক্রবার)বিকাল ৩ টা থেকে ৬ টাদ্বিতীয় সেশন –২৮ আগস্ট (শনিবার)সন্ধ্যা ৭.৩০ থেকে ৯.৩০ পর্যন্ত।

তৃতীয় সেশন –২৯ আগস্ট (রবিবার)সন্ধ্যা ৭.৩০ থেকে ৯.৩০ পর্যন্ত।

**যারা সফলভাবে সব সেশন এ অংশগ্রহণ করবেন তাদের ভার্চুয়াল সার্টিফিকেট দেয়া হবে।

ওয়ার্কশপটি যিনি পরিচালনা করবেন -জুনায়েদ মুনীর (এমবিএ ইন জেনারেল বিজনেস, লামার ইউনিভার্সিটি, টেক্সাস, ইউএসএ)।Additional DirectorInstitutional Quality Assurance Cell (IQAC)United International Universityজুনায়েদ মুনির স্যার, যিনি দীর্ঘ ২৩ বছর অ্যামেরিকা, সৌদি আরব এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কনসালটেন্ট, ট্রেইনার এবং শিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক এবং IQAC এর অতিরিক্ত পরিচালক হিসেবে কর্মরত আছেন।


[ রেজিস্ট্রেশন লিংক –https://forms.gle/7jF63r5AyXPQnpYk9 ]

X