সরোবর, একটি তারামানুষ... অন্তত

সরোবর গো-কর্তন

বেশ কয়েকবছর থেকেই আমরা কসাই সার্ভিস দেওয়ার অনুরোধ পেয়ে আসছিলাম আমাদের সম্মানিত ক্রেতাদের কাছ থেকে। সমস্যাটা আসলে আমরাও বুঝতে পারি।

ভালো কসাই – যে চামড়া কেটে ফেলবে না আবার অনেকটুকু মাংস-চর্বি লাগিয়ে রাখবে না – ঠিক পারফেক্ট ভাবে চামড়া ছিলতে পারে, এমন প্রফেশনালদের ঈদের দিন চাহিদা থাকে আকাশচুম্বী। ফলে সারাবছর যারা গরু ছিলে কেটে বিক্রি করেন তাদের দেখা ঈদের দিন আমরা পাই না।

কোনো একজন কসাই ঈদের আগের দিন হয়ত কথা দিয়ে গিয়েছিলেন দশটায় আসবেন। বেলা বারোটাতেও তার দেখা মেলে না। দুপুর একটায় এসে গরুটাকে শুইয়ে জবাই করতে না করতেই চামড়া ছেলা শুরু।

আরে আরে জানটা যেতে দাও।

সময় আছে নাকি এত?

চামড়া ছিলেই মূল কসাই হাওয়া, দুজন নবিশ সাগরেদ কাজ করছে। মাংস প্রসেস হতে হতে আসর বা মাগরিব। পুরোটা সময় তদারকি করতে হয়, চিৎকার, বকা-ঝকা।

এই অভিজ্ঞতা আমাদের সবারই আছে কম-বেশি।

সারা বছর যারা অন্যান্য পেশার মানুষ কুরবানীর ঈদের দিন তারা হঠাৎ কসাই হয়ে যান। এই অপেশাদার কসাইরা শুধু যে চামড়ার ক্ষতি করে তা না, অনেক সময় মাংসের হাড় ঠিক মতো কাটতে পারে না, মাংসে ময়লা লাগিয়ে ফেলা তো খুবই সাধারণ। কিন্তু কে আসল কসাই আর কে একদিনের কসাই এটা আমরা বুঝতে পারিও না।

আরেকটা দুঃখজনক অধ্যায় হচ্ছে মাংস চুরি। আমাদের দেশের মানুষদের গড়পড়তা নৈতিকতার মান কমেছে। যারা কসাই হিসেবে কাজ করতে আসে তারাও এর ব্যতিক্রম না। এরা চিন্তা করে ৬০০ টাকা কেজি দামের জিনিস ৫-৭ কেজি সরাতে পারলেই তো অনেক। সাথে আনা বস্তার মধ্যে, চামড়ার মধ্যে, নানা ভাবে এই মাংসটা চুরি হয়ে যায় চোখের সামনেই খুব সাবধান না থাকলে।

এই সমস্ত সমস্যার সাথে বর্তমানে যুক্ত হয়েছে কোরোনা ভাইরাসের প্রকোপ। অনেকেই চাচ্ছেন না সারা দিন বহু অচেনা মানুষের মাঝে এক্সপোজড হতে, বাবা-মা বা বয়ষ্কদের ঝুঁকিতে ফেলতে। কোয়ারান্টাইনেও আছেন অনেকে – ঈদটা তাঁদেরও।

এই সমস্ত দিক বিবেচনায় এই প্রথমবারের মতো সরোবর গরু বিক্রির সাথে সাথে দিচ্ছে মাংস প্রসেসিং সার্ভিস।

আমরা যা করব:

  • পশু কুরবানি না হওয়া পর্যন্ত আমাদের জিম্মায় রাখা।
  • ঈদের দিন সলাতের পরে একজন পাঁচ ওয়াক্ত সলাত পড়েন এমন একজনকে দিয়ে পশুটা কুরবানি করা।
  • পুরো গরুর মাংস প্রসেস করা, কেজিতে ৭-৮ টুকরো সাইজ। মাংসগুলো ধুয়ে ৫ কেজির পলি এবং বড় বিন ব্যাগে বিশ কেজির প্যাকেজ হবে।
  • মাথার মাংস প্রসেস করে আলাদা করে রাখা।
  • মূল ভুড়িটি থেকে গোবর ফেলে একবার ধুয়ে প্যাকেট করে দেওয়া।
  • পা খুরসহ চামড়া ছাড়িয়ে আলাদা করে দেওয়া।
  • একটি গরুর কাজ শেষ হওয়ার সাথে সাথে সব কিছু একসাথে ক্রেতার বাসায় পৌঁছে দেওয়া হবে যেন ক্রেতারা তাজা মাংসটা পান।

প্রথম বছর বিধায় এবার আমরা ৪০টি গরু প্রসেসিং এর দায়িত্ব নিচ্ছি। এর মধ্যে ২০টি ১০ যুল হিজ্জা অর্থাৎ ঈদের প্রথম দিন এবং বাকি ২০টি ১১ই যুল হিজ্জা অর্থাৎ ঈদের দ্বিতীয় দিন প্রসেস করা হবে।

ঈদের দিনের সার্ভিস চার্জ ১২ হাজার টাকা এবং ঈদের দ্বিতীয় দিনের সার্ভিস চার্জ ১০ হাজার টাকা।

সবগুলো গরুর ক্ষেত্রেই আমরা ফার্স্ট কাম ফার্স্ট সার্ভ অর্থাৎ যিনি আগে গরু অর্ডার দিয়ে টাকা পেমেন্ট করে কেনার কাজ কমপ্লিট করবেন তাকে আমরা সিরিয়ালে আগে রাখব।

সার্ভিসটি গ্রহণের নিয়মাবলী:

  • সরোবরের মাংস প্রসেসিং সার্ভিস শুধুমাত্র সরোবর থেকে বিক্রি হওয়া গরুর জন্য প্রযোজ্য হবে।
  • অনলাইনে অর্ডার দেওয়ার সময় ক্রেতা বাছাই করে নেবেন তিনি সার্ভিসটি গ্রহণ করতে চান কিনা। ওয়েবসাইট ব্যতিত অন্য কোন মাধ্যমে এই সার্ভিসটির জন্য বুকিং গ্রহণযোগ্য হবে না।
  • সার্ভিসটির গ্রহণের জন্য একজন ক্রেতাকে ইদের দিনের জন্য ১২ হাজার টাকা এবং ঈদের পরের দিন নিলে ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে গরুর দাম বিচার্য বিষয় হিসেবে গণ্য হবে না।
  • কেবলমাত্র মাত্র ৪০ জন গ্রাহককে এই সেবাটি সরোবর থেকে এবার দেয়া সম্ভব হবে ইনশাআল্লাহ। প্রথম বিশ জন গ্রাহক ঈদের দিন এবং পরবর্তী বিশ জন ঈদের দ্বিতীয় দিন। যেহেতু এই সার্ভিসের চাহিদা অনেক বেশি, এক্ষেত্রে আগে আসলে আগে ভিত্তিতে গ্রাহক বাছাই করা হবে।
  • মাংসের সাইজ প্রতি কেজিতে ৭/৮ টুকরা যেন হয় এমন আকৃতির করে কাটা হবে এবং মাথার মাংস ও মগজ এবং অন্যান্য কলিজা, ফ্যাপসা আলাদা প্যাকেজ করা হবে।
  • মাংস গ্রাহক কর্তৃক পূর্ব নির্ধারিত একটিমাত্র ঠিকানায় ডেলিভারি দেওয়া হবে। একাধিক ঠিকানায় কিংবা ভাগ ভাগ করে ডেলিভারি দেওয়া হবে না।
  • আমরা এ বছর মাংস তিন ভাগ করে একটি ভাগ বিতরণ করে দেওয়ার দায়িত্ব নিতে অপারগ। ক্রেতাকে তার পুরো গরুর মাংসই নিতে হবে।
  • মোট মাংসের পরিমাণ ওজন করে ইনভয়েসে লিখে দেওয়া হবে।
  • ক্রেতাকে সকাল আটটার মধ্যে ঈদের সলাত আদায় করে ফেলত হবে, কারণ আমর সকাল আটটা থেকে গরু জবাইয়ের কাজ শুরু করব। ঠিক কোন সময়ে পাবেন সেটা আমরা এখনই বলতে পারছি না, কারণ তা নির্ভর করবে গরুর সাইজ, আমাদের প্রসেসিং পয়েন্ট থেকে ক্রেতার বাসার দূরত্ব এবং রাস্তার অবস্থার ওপরে। কিন্তু যেহেতু সারাবছর কাজ করে এমন প্রফেশনাল কসাইদের দিয়ে কাজটা করাব তাই আশা করি গরুটি কুরবানি হবার পরে খুব তাড়াতাড়িই মাংস আপনার কাছে পৌঁছে যাবে ইনশা আল্লাহ।